ভাইফোঁটা আসতে এখনো অনেক দেরি

ভাইফোঁটা আসতে এখনো অনেক দেরি

গাজোল,২৩ অক্টোবর: ভাইফোঁটা আসতে এখনো অনেক দেরি। কিন্তু তার আগেই ভাইফোঁটার আমেজ ছড়িয়ে দিল আলালের চলো পাল্টাই ক্লাব। এবার তাদের লক্ষ্মী পুজোর থিম ছিল ভাইফোঁটা। বিভিন্ন বয়সের দিদি – বোনেরা তাদের ভাই বা দাদাদের যেমন ফোঁটা দিচ্ছেন, তেমনি মা লক্ষ্মী ফোঁটা দিচ্ছেন গণেশ কে। মাটির পুতুলের মডেল দিয়ে এই দৃশ্য এবার ফুটিয়ে তুলেছে তারা। তবে প্রকৃতি বাধ সাধার কারণে বুধবার থেকে তারা এই দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।সেদিন মন্দিরে নিয়ম মেনে শুধু মা লক্ষ্মী র পুজো হয়েছে। গতকাল থেকে মোটামুটি ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী পুজো মণ্ডপ। তারপর থেকেই তাদের পুজো দেখতে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে শুধু হিন্দুরাই নন যেহেতু ওই এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন, তাই আলালের চলো পাল্টাই ক্লাবের লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন সংশ্লিষ্ট এলাকার হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ।
মালদা জেলায় বিগ বাজেটের একমাত্র লক্ষ্মীপুজো করে থাকে গাজোল ব্লকের আলালের “চলো পাল্টাই” ক্লাব। এবার তাদের পুজো পা দিলো দশম বর্ষে। প্রতিবারই তাদের পুজোর বাজেট থাকে কয়েক লক্ষ টাকা। লক্ষ্মীপূজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন থিম তুলে ধরেন মানুষের সামনে। যার ফলে আলালের চলো পাল্টাই ক্লাবের লক্ষ্মীপুজোর একটা সুনাম গোটা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে গতবছর করোনা পরিস্থিতির জন্য সেভাবে পূজা হয়নি। কোনরকম থিম ছাড়া নামমাত্র পুজো হয়েছিল।
এদিন আলালে গিয়ে দেখা গেল একটি ফাঁকা জায়গাকে ঘিরে রূপ দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ এলাকার। গড়ে তোলা হয়েছে খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘর। ৬ টি ঘরের দাওয়ায় বিভিন্ন বয়সের দিদি এবং বোনেরা তাদের ভাই এবং দাদাদের ফোঁটা দিচ্ছেন।মাঝখানে একটি বাড়ির দাওয়ায় বসে গণেশকে ফোঁটা দিচ্ছেন মা লক্ষী। নানা রঙের আলো এবং উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা এলাকা।
পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা পাপ্পু গুপ্তা জানালেন – মালদা জেলায় একমাত্র তারাই এত বড় করে লক্ষ্মীপুজো করে থাকেন। প্রতিবছরই লক্ষ্মীপূজো কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন থিম তুলে ধরেন তারা। এবার তাদের থিম ছিল ভাইফোঁটা।গ্রাম্য পরিবেশে বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে সেই থিমকে তুলে ধরেছেন তারা।তবে প্রবল বৃষ্টি এবং খারাপ আবহাওয়ার জন্য গত বুধবার থেকে তারা এগুলো তুলে ধরতে পারেননি। গতকাল আবহাওয়া একটু ভালো হওয়ায় কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছেন। তা সত্ত্বেও সমস্ত মডেল তারা উপস্থাপন করতে পারেননি। কোনরকমে মাত্র ৬ টি মডেল উপস্থাপন করতে পেরেছেন। অন্য আরেক কর্মকর্তা সুজিত মহালদার জানালেন – প্রতিবারই কয়েক লাখ টাকার বাজেট হয়। এবারের বাজেট প্রায় তিন লাখ টাকা। সমস্ত টাকা উঠে আসে ক্লাব সদস্যদের চাঁদা এবং স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ সাহায্যের ভিত্তিতে।যেহেতু এই পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকার নাম ছড়িয়ে পড়েছে তাই সমস্ত মানুষই খুশি মনে আমাদের চাঁদা দেন। পুজো কমিটির আরেক সদস্য বিশাল সাহা জানালেন – আলাল এলাকায় হিন্দু – মুসলিম, আদিবাসী সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। কবে এই পুজোতে ধর্মের কোন বাঁধন নেই।সমস্ত জাতি এবং সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে এই পুজো এবং মেলাতে অংশগ্রহণ করেন।পূজাকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আগামীকাল তা শেষ হবে। একইসাথে হবে বিসর্জন। গতকাল বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ পুজো দেখতে এসেছিলেন। আজ এবং আগামীকালও আসবেন। আগামীকাল বিসর্জন দেওয়ার পরই পরের বছরের পুজোর ভাবনা শুরু করবো আমরা।

উত্তর বাংলা