প্রায় 67লক্ষ টাকা নয়ছয় করার ঘটনায় হরিরামপুরের শিরসি এলাকার প্রধানের স্বামী নারায়ণ সরকার

প্রায় 67লক্ষ টাকা নয়ছয় করার ঘটনায় হরিরামপুরের শিরসি এলাকার প্রধানের স্বামী নারায়ণ সরকার

প্রায় 67লক্ষ টাকা নয়ছয় করার ঘটনায় হরিরামপুরের শিরসি এলাকার প্রধানের স্বামী নারায়ণ সরকার ওরফে নকুলের জমি বিক্রি করে সেই টাকা ফেরতের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিল বালুরঘাটের এআরসিএস দপ্তর , বি এল এল আর ও তরফে দেখা হলো জমির বিষয়ে খোঁজ খবরও-এবার টাকা ফেরত পাব আশায় বুক বাঁধছে সমবায়ের গ্রাহকেরা -শোরগোল পড়েছে হরিরাম সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে
রাজ  চক্রবর্তী,হরিরামপুর,২আগষ্ট,দক্ষিণ দিনাজপুর:–গরীব মানুষজনদের জমানো সমবায়ের প্রায় 67লক্ষ টাকা নয়ছয় করার ঘটনায় অভিযুক্তের জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের সেই টাকা ফেরত দেবার পদক্ষেপ গ্রহণ করলো জেলা সমবায় আধিকারিক। অভিযুক্তের জায়গা কতটা রয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্লকের ভূমি সংস্কার দপ্তরকে।কৃষি সমবায়ের সম্পাদক থাকা কালীন তৃণমুল নেতা তথা প্রাক্তন সমবায়ের সম্পাদক নারায়ন সরকার ওরফে নকুল দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর ব্লকের শিরষী গ্রাম পঞ্চায়েতের মুলাহার সমবায়ের জমানো টাকা সম্পাদকের পদের অপব্যবহার করে সেই টাকা সমবায় থেকে তুলে নয়ছয় করেছে বলে অভিযোগ ছিল বাকি সদস্যদের।টাকা ফেরতের দাবিতে বাকি সমবায়ের সদস্যরা উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে গঙ্গারামপুরের মকুমা আদালতে মামলা পর্যন্ত করেন নারায়ন সরকার ওরফে নকুল এর নামে।টাকা ফেরত দেওয়া সহ বাকি সদস্যরা নারায়ন সরকার (নকুল)এর গ্রেফতারের দাবিতে আগেও হরিরামপুরে অবস্থান বিক্ষোভ করে আন্দোলনে নেমেছিল হরিরামপুর এর সমবায়ের গ্রাহকেরা।ব্লকের বিএলআরও অবশ্য জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বালুরঘাট এরআরসিএস দপ্তর থেকে লিখিত আবেদন পাওয়ার পরেই জমি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যাওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও এলাকার প্রধানের স্বামী তথা ওই সমবায়ের সম্পাদক নারায়ন সরকার ওরফে নকুল দাবি করেছেন, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে।এমন ঘটনায় ফের হরিরামপুরে শোরগোল পড়েছে।
জানা গিয়েছে,হরিরামপুর ব্লকের শিরষী গ্রাম পঞ্চায়েতের দানগ্রাম এলাকার কৃষকদের সুবিধায় ১৯৫০ সালে মুলাহার এলাকায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড বি.ডি.পি মাধ্যমে সমবায় সমিতির ব্যাঙ্কের শাখা খোলা হয়। দানগ্রাম এলাকার তৃণমুল নেতা নারায়ণ সরকার ওরফে নকুল মুলাহার সমবায় সমিতির সম্পাদক পদে বসেন ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত।এই সমবায় সমিতিতে প্রায় ৯৯৯জন গরীব আদিবাসী, সংখ্যালঘু পরিবারের মানুষজন গ্রাহক রয়েছেন। তারাই সেখান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করবেন বলে এই সমিতি খোলা হয়েছিল।
সমবায় সমিতি সুত্রে খবর, নারায়ন সরকার ওরফে নকুল গত ২০০৯ সাল থেকে ৫১০০০ ১০৫ নম্বর চেক সহ প্রায় ৯টি চেক দিয়ে ১০/১১/২০১৭ সাল পর্যন্ত ৩৪লক্ষ ০২হাজার ৯১২টাকা ঋণ নিয়েছেন ওই ব্যাস্ক থেকে। সেই টাকা ব্যাস্কে এই কয়েক বছরে নারায়ন সরকার ওরফে নকুলের সুদ সহ হয়েছে আরো 33লক্ষ ৩৩হাজার ৬৯৪টাকা।সব মিলিয়ে ২০/০৭/২০২১ পর্যন্ত নারায়ণ সরকার ওরফে নকুলের কাছে ব্যাঙ্কের পাওনা টাকার পরিমান ৬৭লক্ষ ৩৬হাজার ৬০৬টাকা বলে যানা গিয়েছে।নারায়ণ সরকার ওরফে নকুল এত পরিমানে টাকা সেখান থেকে তুলে সেই ব্যাস্কটিকে কার্যত বন্ধ করে দেবার মত পরিস্থতি তৈরি করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ বাকি সদস্যদের।
জমানো টাকা ফেরতের জন্য আদিবাসী থেকে সংখ্যালঘুরা সকলেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে থাকেন।এর ফলেই নারায়ন সরকার নকুলের কাছে ঋণের টাকা ফেরতের জন্য বাকি সদস্যরা আন্দোলন শুরু করেন৷গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এলাকার তৃণমুল নেতা নারায়ণ সরকার ওরফে নকুল এর স্ত্রীকে শিৱষী গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের প্রধান করা হয়।
অভিযোগ, ব্যাঙ্কের তরফে এই তৃণমূল নেতার কাছে বারবার টাকার ফেরতের জন্য বলা হলেও সেই টাকা তিনি দিতে রাজি ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন বাকি সদস্যরা।
মূলাহার সমবায় ব্যাঙ্কের নারায়ন সরকার ওরফে নকুলের পরে সম্পাদক হওয়া সামিম হাসন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় 67লক্ষ টাকা নকুল সরকারের কাছে পাবে ব্যাঙ্ক।সেই টাকা ফেরত পাবার জন্য আন্দোলনে নেমেছি৷গবীর জনগনের টাকা ফেরত দিতে হবে তারাও চাপ দিচ্ছে। সমস্ত জায়গায় লিখিত অভিযোগ করেছি। নারায়ণ সরকার ওরফে নকুলের গ্রেফতারের বহুবার দাবি জানিয়েছেন।
মুলাহার সমবায়ের সদস্য হাবল রায় ও সমবায় বাঙ্কের মহিলা সদস্য অভিযোগ করে বলেন ৩৪লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিল, সেই টাকা সুদ সহ হয়েছে ৬৭লক্ষ টাকার উপরে হয়েছে।নারায়ন সরকার ৫বছর ধরে সেই টাকা নিলেও ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে।কোলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার পরেও সেই টাকা ফেরত দিচ্ছে না সে।
সমবায় সমিতি শেষ করে দিয়েছেন তিনি।
এদিন জেলা আরসিএস দপ্তর থেকে লিখিত চিঠি পাওয়ার পরে সমবায়ের এত পরিমাণে টাকা প্রদান করার জন্য নকুল সরকারের কি পরিমানে জায়গা রয়েছে তা খোঁজ খবর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্লকের ভূমি সংস্কার দপ্তর আধিকারিক , সুগান মুক্তান কে চিঠি দিয়ে ব্যাবস্থা নেবার কথা বলেন।
হরিরামপুরের ভূমি সংস্কার দপ্তর এর আধিকারিক সুগান মূক্তান জানিয়েছেন,জমির বিষয়ে কি পরিস্থিতিতে হয়েছে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল সেজন্য এখানে আসা হয়েছিল।পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্যের কৃষি ও বিপনন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র জানিয়েছেন , প্রশাসনিক কি বিষয় রয়েছে তারাই সেটা করবে।সকলের জন্য যা আইন রয়েছে তাই ওনারও হবে।
যদিও অভিযুক্ত ঋণ খিলাপি নারায়ণ সরকার ওরফে নকুল নামে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, ঋণের বিষয়টি নিয়ে জমি দেখতে গিয়েছিল প্রশাসনের লোকজন বলে শুনেছি । খুব তারাতারি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে সমস্যা মিটে যাবে।
এবার টাকা ফেরতের জন্য নকুল সরকারের জমি বিক্রির প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া ঋণের টাকা ফেরত পাবেন বলে আশায় তারা বুক বেধেছেন।

বাংলা