অশোকগ্রাম গাছে বেঁধে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে এক যুবককে খুন

অশোকগ্রাম গাছে বেঁধে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে এক যুবককে খুন

গঙ্গারামপুরের অশোকগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমান্তববর্তি দুমুঠা ফরিদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হল এক যুবক, শোরগোল এলাকাজুড়ে রাজদীপ চক্রবর্তী গঙ্গারামপুর ২৫জানুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর-গাছে বেঁধে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে এক যুবককে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে রাতে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবককে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অশোকগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমান্তববর্তি দোমুঠা ফরিদপুর মধ্যপাড়া এলাকার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে। এমন ঘটনার খবর পেতেই এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সহ জেলা পুলিশ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকেরা সেখানে ছুটে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। তাঁদের কাছেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেতেই মৃতের বাবা মা থেকে আত্মীয়দের পাশাপাশি এলাকাবাসীরাও অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন৷ পুরো ঘটনায় এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের পাশপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অতিরুক্ত জেলা পুলিশ সুপার গ্রামীন ডেনডুপ শেরপা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে, জিজ্ঞাসবাদের জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খুব তারাতারি গ্রেফতার করা হবে। মৃতের পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার রাতে মটোর বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর মৃতের পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার রাতে মটোর বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী যুবক নানা অজুহাত দেখিয়ে মঞ্জারুলকে এক অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেই বাড়ির মধ্যে একটি গাছের সঙ্গে হাত পা বেঁধে হাতে চলে দুষ্কৃতী যুবকদের অকথ্য অত্যাচার বলে খবর। এর পরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এমন অমানবিক অত্যাচারে ফলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তে ভরে যায়। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, পরিবারের লোকজনও এমন ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি মঞ্জারুলের বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানাই খুন হওয়া ওই যুবকের নাম মঞ্জারুল ইসলাম(২৭) বছর তাঁর বাড়ি গঙ্গারামপুর থানার অশোকগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমান্তববর্তি দোমুঠা ফরিদপুর মধ্যপাড়া এলাকায়। পেশায় সে বিদেশে রাজমিস্ত্রির শ্রমিকের কাজ করত।কয়েকদিন আগে গোয়া থেকে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ফেব্রুয়ারী মাসের ১ তারিখে আবার তাঁর গোয়াতে কাজ করতে যাবার জন্য ট্রেনের টিকিটও কেটেছিল সে বলে পরিবার সূত্রে খবর। পরিবারে রয়েছে বাবা, ফইজুর রহমান,মা ওহেদা বিবি, স্ত্রী অনবিনা বিবি। রয়েছে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়েও।এলাকায় ভালো ছেলে বলে পরিচিত অভাবের সংসারে সংসার পরিচালনার জন্য বিদেশে কাজ করেই পরিবার বাচাতো।
ঘটনার খবর পেতেই এলাকার মানুষজন ভিড় করতে শুরু করেন সেখানে। ছুটে আসেন এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধাম ক্ষীরমোহন রায় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ওসমান গনি সহ বহু গ্রামবাসীরাও। ছুটে আসে লো পুলিশ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকেরাও।
খুন হওয়া যুবকের মা ওহেদা বিবি দিদি, মাসুদা বিবি বাবা ফইজুর মিঞারা অভিযোগ করে বলেন, বারবার বলার পরেও ছেলেকে ওদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বেঁধে नঠ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নিঃশংসভাবে খুন করল। কঠোর শাস্তির দাবি জানাই অভিযুক্তদের।
মৃতের শশুর আব্দুল হামেদ আলী তথা ওই এলাকার বাসিন্দা তাঁর জামাইকে খুন করার জন্য দোমুঠা ফরিদপুর এলাকার দুষ্কৃতী হৃদয় রায়, দেবাশিষ রায় নিবাস রায়, বাদল রায় সহ ৫/৬ বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।টাকা পাওয়ার বিষয়ে অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে নিঃশংসভাবে খুন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ওসমান গনি জানিয়েছেন ,রাতেই এমন ঘটনার খবর পেয়ে এখানে আসা হয়েছে।যারাই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁদের করা শাস্তির দাবি জানাই।
খুন হওয়া যুবকের দুই এলাকাবাসী বাবুল মিঞা ও মন্টু মিঞারা দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, মানুষ যে এত অমানুষ হতে পারে তা ওই সমস্ত দুষ্কৃতীদের না দেখলে বোঝাই যাবে না। এই খুনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার খবর পেতেই সেখানে ছুটে আসেন গঙ্গারামপুর থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী।ছুটে আসেন অতিরুক্ত জেলা পুলিশ গ্রামীন ডেনডুপ শেরপা, গঙ্গারামপুরের মহুকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাশিষ ভট্টাচার্য গঙ্গারামপুর থানার আইসি সমীর দেওসাও।তারা এসে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। গ্রামবাসীদের আশ্বাসদেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির জন্য আইনি সব ধরনের ব্যবস্থা নেবেন।
পুরো ঘটনায় এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের পাশপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবার সহ এলাকাজুড়ে।

দক্ষিণ বাংলা